রাতের অন্ধকারে কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো ছড়াতে মহাকাশে আয়নাযুক্ত ৫০ হাজার উপগ্রহ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কা, কৃত্রিম আলোর কারণে রাতের আকাশের স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ‘সেবা হিসেবে সূর্যের আলো’ সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকেরা অর্থের বিনিময়ে রাতে প্রয়োজনমতো সূর্যের আলো পেতে পারবেন। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রাতের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে এ আলো ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রতি ঘণ্টার সেবামূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ডলার।
ইউরোপীয় দক্ষিণাঞ্চলীয় মানমন্দিরের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত ৫০ হাজার উপগ্রহ স্থাপন করা হলে রাতের আকাশের উজ্জ্বলতা বর্তমানের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বাড়তে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্লাডলাইট ব্যবহার করে প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালায় প্রতিষ্ঠানটি। এখনো তাদের কোনো উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়নি। ভারতের স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বেন নওয়াক বিজ্ঞানীদের উদ্বেগকে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে স্বাভাবিক আশঙ্কা হিসেবে দেখেছেন। তবে কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করছেন, এ উদ্যোগ মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও রাতের পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
