ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এ কে এম আজাদ প্রলয়ে ধীরে ধীরে স্থবির সওজ!!!

আজাদ নামা (ডিগবাজি দিতে গিয়ে বারবার নিজেই নিজেকে করেছেন বিতর্কিত) - ০১
এ কে এম আজাদ প্রলয়ে ধীরে ধীরে স্থবির সওজ!!!

তিনি এখন মস্ত বড় জাতীয়তাবাদী!!! প্রচার করেন আওয়ামী যুগের নির্যাতিত-নিপীড়িত। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলেই তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের অন্যতম। অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এত নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েও একদিনের জন্যও আটকায়নি তাঁর লোভনীয় প্রমোশন কিংবা পোস্টিংগুলো। অথচ স্ব-প্রচারিত আওয়ামী যুগের এই তথাকথিত নির্যাতিত-নিপীড়িত সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীই তিন তিন বার পেয়েছেন প্রমোশন, খোদ আওয়ামী আমলেই।

বিগত আওয়ামী লীগ আমলেই সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রমোশন পেয়ে হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী; নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে প্রমোশন পেয়ে হয়ে উঠেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী; আবার রাতারাতি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে হয়ে উঠেছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। বাগিয়ে নিয়েছিলেন লোভনীয় সব পোস্টিং-পদায়ন। তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে শুধুমাত্র স্যুট-টাই গিফট এবং নিয়মিত তাঁর মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করেই হয়ে উঠেছিলেন বেপরোয়া। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সরাসরি ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন ময়মনসিংহ সড়ক সার্কেলে। এরপর ময়মনসিংহ সার্কেল থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বরিশাল সড়ক জোনে। তাঁর কর্মরত থাকা অবস্থায় বরিশাল সড়ক জোন ও ময়মনসিংহ সড়ক সার্কেলে আওয়ামী লীগ আমলে সরকারি ঠিকাদারি কাজ হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এসব স্থানে পদায়িত হওয়াটা প্রকৌশলীদের জন্য রীতিমতো সোনার হরিণ থাকলেও আওয়ামী লীগ আমলে এগুলো তাঁর জন্য ছিল রীতিমতো ডাল-ভাত।

বলা হচ্ছে ঢাকা সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম আজাদ সম্পর্কে। আওয়ামী যুগের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ও প্রভাবশালী এই প্রকৌশলী কালের বিবর্তনে রূপ পাল্টে আজ সওজের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী। ছাত্রজীবন থেকে অদ্যবধি কর্মজীবনে নিজ স্বার্থে বারবার জড়িয়েছেন বিতর্কিত কাজে ও ডিগবাজিতে। সড়কজুড়ে অনেকেই মজা করে বলেন, ডিগবাজিতে স্যারের কাছে হার মানবে চলচ্চিত্র অভিনেতা জায়েদ খানও। অনন্ত জলিলের মতো আওয়ামী যুগে অসম্ভবকে সম্ভব করাটাই ছিল এই আজাদের কাজ। পুরো সড়কজুড়ে একটাই কানাঘুষা—আজাদ আসলে কার? কথিত আছে, আজাদ শুধুই নিজের। এক হাতে স্বার্থ থাকলে নির্দ্বিধায় নিজের আরেক হাতকে কেটে ফেলতে পারেন গিরগিটির মতো রং পাল্টানো এই আজাদ রহমান।

ডিগবাজি দিতে গিয়ে বারবার নিজের অবস্থানকে নিজেই করেছেন বিতর্কিত:

ক) ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট, তৎকালীন বিআইটি খুলনা) অধ্যয়নকালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে শুধুমাত্র হলে একটি সিটের আশায় ক্যাম্পাসে নিজের প্রভাব বিস্তারে জড়িয়ে পড়েন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে; অথচ তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. নাসিমের বিশেষ হস্তক্ষেপে ১৮তম বিসিএস (সিভিল) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন পান তাঁর নিজ জেলা টাঙ্গাইলে। প্রশ্ন থেকেই যায়, আজাদ আসলে কার?

খ) ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সরাসরি তৎকালীন আওয়ামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. নাসিমের হস্তক্ষেপে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকেই ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন আজাদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম দিকে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আজাদ। এরপর আবার ডিগবাজি দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রকাশ করতে থাকেন জাতীয়তাবাদী রূপে। বিএনপি সরকারের শেষের দিকে শুরু হয় তাঁর লাগামহীন ব্যাপক দুর্নীতি। পরবর্তীতে ২০০৭-২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশনের (ট্রুথ কমিশন) ৪৫৬ জন দুর্নীতিবাজের তালিকায় এ কে এম আজাদ রহমানের নাম সুনির্দিষ্টভাবে নথিভুক্ত হয়। তিনি তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (SDE) হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন অপরাধের দায় স্বীকার করে জরিমানা বা অর্থ প্রদানের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে এই আজাদ রহমানের মতো আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ-চোরদের কারণে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে ইমেজ সংকটে পড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি, যা এখনো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির একটি অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।

পরবর্তীকালে আবারও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ডিগবাজি দিয়ে আজাদ হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় আওয়ামী লীগার। আওয়ামী লীগ আমলেই বাগিয়ে নেন পরপর তিনটি প্রমোশনসহ লোভনীয় সব পোস্টিং। ওবায়দুল কাদেরের ছত্রছায়ায় গড়ে তোলেন কাদের সিন্ডিকেটের বলয়। একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন ঠিকাদারি, পদায়ন কিংবা প্রমোশন। আবারও প্রশ্ন ওঠে—ডিগবাজিতে কে সেরা? আজাদ? নাকি চিত্রনায়ক জায়েদ খান?

গ) ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তৎকালীন সময়ে বরিশাল সড়ক জোনে কর্মরত থাকলেও অবস্থান শুরু করেন ঢাকায়। কারণ রাজধানী থেকে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কিংবা ডিগবাজি দেওয়া যতটা সহজ, বরিশাল থেকে ততটা সহজ হবে না—এই কথাটা বুঝে গিয়েছিলেন আজাদ। যোগাযোগ করেন তৎকালীন আওয়ামী-প্রভাবশালী প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসানের সাথে। তাঁকে আশ্বাস দেন, "আমাকে যেকোনোভাবে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করেন। আপনি আওয়ামীপন্থী হলেও (যদিও পরবর্তীতে আজাদের বুদ্ধিতে তিনিও ডিগবাজি দিয়ে জাতীয়তাবাদী সাজার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন) আমি আপনাকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনার মেয়াদ শেষ করার ব্যাপারে সহযোগিতা করব।" কিন্তু ঢাকায় পদায়ন পাওয়ার ১-২ মাসের মধ্যেই আজাদের নজর পড়ে রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে। বিভিন্ন মহলে নিজেকে সওজের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে জাহির করে নানা চেষ্টা-তদবির, লেজুরবৃত্তি এবং অর্থ আদান-প্রদান করেও আজাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। প্রশ্ন ওঠে, আর কত ক্ষমতা পেলে শান্ত হবেন আজাদ?

ঘ) রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে এবার খোদ সওজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে রীতিমতো মরিয়া হয়ে ওঠেন আজাদ। নিজের কর্মস্থল ঢাকা জোনে চরম অনিয়মিত থাকার রেকর্ড গড়ে অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতির নজির তৈরি করে আজাদ মরিয়া হয়ে পড়েন রাজনৈতিক যোগাযোগ ও লেজুরবৃত্তিতে। আজাদের চরম অপেশাদারিত্ব, কর্মস্থলে চরম অনিয়মিত থাকার নজির স্থাপন ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক জোন। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের প্রভাব বিস্তারে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির (RHEA) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিগত সরকারের দুর্নীতির সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তা এ কে এম আজাদ রহমান একক প্রভাব খাটিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। একে অনেক প্রশাসনিক বিশ্লেষক সওজে "বিতর্কিতদের পুনর্বাসন" এবং সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার একটি সুনির্দিষ্ট অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ বিগত সরকারের আমলে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় নেতা। এত কিছু করেও সরকারের চরম পেশাদারিত্বের কাছে হার মানেন অযোগ্য আজাদ; ব্যর্থ হন নিজেকে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে আসীন করতে। আবারও প্রশ্ন ওঠে—একটা লোক কতটা ক্ষমতালিপ্সু এবং নির্লজ্জ হলে নিজের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জোনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির করে শুধুমাত্র লেজুরবৃত্তি এবং ডিগবাজিতে নিজেকে এতটা নিয়োজিত রাখে?

ঙ) তোরা যে যা বলিস ভাই; আমার প্রধান প্রকৌশলী হওয়া চাই-ই। চাটুকারিতা, লেজুরবৃত্তি, ডিগবাজি, বেপরোয়া দুর্নীতির বাইরে যোগ্যতা থাকুক কিংবা না থাকুক; সওজের প্রধান প্রকৌশলী হতেই হবে এ কে এম আজাদ রহমানকে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে অনুষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আজাদ রহমান নির্বাচন করছেন সহ-সভাপতি পদে। ইতিমধ্যেই বলাবলি শুরু করেছেন, নির্বাচিত হলে আমিই সড়কের পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী। আজাদপন্থীরা বলাবলি শুরু করে দিয়েছেন, "অনন্ত জলিল নয়, অসম্ভবকে সম্ভব করাই আজাদ স্যারের কাজ।"

আজাদের এ ধরনের বেপরোয়া দুর্নীতি, চরম অপেশাদারিত্ব ও লেজুরবৃত্তি নিয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক রিপোর্ট হয়েছে। এসব নিউজ ডিলিট করতে ও নিজস্ব বলয়ের সাংবাদিক সিন্ডিকেট সৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই আজাদ খরচ করেছেন কোটি টাকার ওপর। আর তাঁর এ ধরনের কাজে সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন নরসিংদী সড়ক বিভাগের শিবপুর সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা হবে আরও আদ্যপান্ত।

পরবর্তী পর্বসমূহ:

১. সওজ ধ্বংসে মেতেছেন এ কে এম আজাদ রহমান!!!

২. আত্মস্বীকৃত চোরের কবলে দিশেহারা সওজ!!!

৩. সওজ জুড়ে দুর্নীতির জাল বুনছেন এ কে এম আজাদ রহমান!!!

৪. এ কে এম আজাদ রহমান - আজ তিনি মস্ত বড় জাতীয়তাবাদী!!!

৫. সওজের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও হলুদ সাংবাদিকদের নিয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব বলয় গড়ছেন এ কে এম আজাদ রহমান!!!

৬. আর কত ক্ষমতা-টাকা হলে থামবেন সওজের বেপরোয়া প্রকৌশলী এ কে এম আজাদ রহমান!!!

৭. এবার কোন নতুন মিশনে নেমেছেন সওজের বেপরোয়া প্রকৌশলী এ কে এম আজাদ রহমান?

৮. এ কে এম আজাদ রহমানের টাকার কাছে কোণঠাসা পুরো সওজ!!!

৯. আমাকে নিয়ে নিউজ করে তো লাভ নেই; নিউজ তো রাখতে পারবেন না; ডিলিট হয়ে যাবে - প্রকৌশলী এ কে এম আজাদ রহমান

১০. আধিপত্য বিস্তারে হলুদ সাংবাদিকদের ব্যবহার করেন এ কে এম আজাদ রহমান!!!