ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাত পোহালেই ভোট, সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

রাত পোহালেই ভোট, সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় আট লাখ সদস্য। পাশাপাশি রয়েছেন দুই হাজার নির্বাহী ও ৬৫৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণ ঘিরে এমন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হলেও মাঠ পর্যায়ে উত্তাপ ও সংশয় দুই-ই বিরাজ করছে।

এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনেক স্থানে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ভয় দেখানো, ক্যাম্প ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে আন্তঃনগর ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেসে দেওয়া আগুনে ঝরেছে প্রাণও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাল দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে দেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কর্মকর্তাদের এক মোবাইল বার্তায় যে কোনো স্থান থেকে আসা ‘শেষ মুহূর্তের মেসেজ’, ‘আগের রাতের মেসেজ’ ও ‘চূড়ান্ত মেসেজ’ আমলে না নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি শুধু ইসির নির্দেশনা মেনে ভোটগ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। যদিও এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ২৮টি দল অংশ নিয়েছে। বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করছে। ভোট বর্জনের অংশ হিসাবে আজ ও কাল হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে ২৮টি রাজনৈতিক দলের সর্বমোট প্রার্থী রয়েছেন ১৫৩৪ জন। শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছেন ২৬৬ জন।

বিএনপির ডাকা হরতালে ভোটগ্রহণে বিশেষ প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ইসি সচিবালয়ে শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে বিজেপি, র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তাদের সদস্য টহলে আছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স তাদের টহল শুরু করেছে। ভোটারদের মনে যাতে কোনো ভীতি না থাকে সে বিষয়গুলো কমিশন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।