ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কানাডায় ঢুকতে পারছেনা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

কানাডায় ঢুকতে পারছেনা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কানাডায় প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না টরোন্টো সরকার। কানাডাপ্রবাসী শিখ নেতা ও দেশটির নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড এবং এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রবেশের অনুমতি ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে ট্রুডো সরকার। দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তরের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে এই হার হ্রাস পেয়েছে ৮৬ শতাংশ।

কানাডার অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার নিজেও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে কানাডার বর্তমান সম্পর্কই আমাদেরকে এই পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচালিত করেছে। অনুমোদনের হার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে সম্ভবত আরও সময় লাগবে।’

কানাডা প্রবাসী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর ভারতের শিখদের পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন খালিস্তান মুভমেন্টের একজন অগ্রসারির সংগঠক ছিলেন। সেই সঙ্গে ভারতের একজন তালিকাভুক্ত ফেরার সন্ত্রাসীও ছিলেন তিনি।

১৯৭৭ সালে পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলা থেকে কানাডায় যান হরদীপ, পরে সেখানকার নাগরিকত্ব অর্জন করেন। ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভ্যানকুভার শহরের একটি গুরুদুয়ারার (শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়) কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হরদীপ সিং নিজ্জর।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হরদীপ হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের দায়ী করে বলেন, এ অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ তার হাতে রয়েছে।

হরদীপ হত্যাকাণ্ড যে কানাডার জন্য যে তীব্র অবমাননাকর, তা বোঝাতে পার্লামেন্ট ভাষণে ট্রুডো বলেন, ‘কানাডার মাটিতে একজন কানাডীয় নাগরিককে হত্যার সঙ্গে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।’

স্বাভাবিকভাবেই ভারত এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে এবং কানাডার সরকারের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ দাবি করে। জবাবে কানাডাও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানায়, ভারতের সরকারকে আগেই এ সংক্রান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সরবরাহ করা হয়েছে।

এই নিয়ে বাদানুবাদের জেরে নজিরবিহীন কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে ভারত-কানাডা। দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে গত বছর কানাডার ৪১ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ভারত, যা নয়াদিল্লিতে কানাডার দূতাবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের এক তৃতীয়াংশ।