রাজশাহী থেকে নৌপথে ভারতে পণ্য পারাপারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে চলেছে। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদীঘি থানার ময়া এলাকা থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত পণ্য আনা-নেওয়ার নতুন রুট চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এর উদ্বোধন হবে।
সুলতানগঞ্জ-ময়া ও গোদাগাড়ী-ভারতের লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে নৌপথে ফের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সুলতানগঞ্জ নদী বন্দর উদ্বোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। উদ্বোধনের পর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদী বন্দরের মর্যাদা পাবে।
জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই পথে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে যাবে। এসব পণ্য মূলত বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়।
সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানিতে সময় ও খরচ কম হবে। এতে উপকৃত হবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বছরে এই নৌপথে দুই দেশের মধ্যে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।
নৌপথ চালুর বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ২০২০ সালে একবার উদ্যোগও নিয়েছিলেন চালুর। কিন্তু করোনার কারণে সম্ভব হয়নি। গত সিটি নির্বাচনে নির্বাচনি ইশতেহারে সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের ময়া পর্যন্ত নৌপথ চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল তার। নৌপথ চালুর মধ্য দিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, শিগগিরই মুর্শিদাবাদের ময়া থেকে সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথে নৌযান চলাচল শুরু হবে। এরপর রাজশাহী পর্যন্ত চালু ও নগরীতে নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেবো। এটি চালু হলে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে।
